Ad Space 100*120
Ad Space 100*120

ইউপি সচিবের ঘুষ গ্রহণের সংবাদ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা


প্রকাশের সময় : ২ years ago
ইউপি সচিবের ঘুষ গ্রহণের সংবাদ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চর বাদাম ইউপি সচিব ফিরোজ আলমের সাথে একজন সেবা গ্রহীতার লেনদেনকৃত ঘুষ চিত্র নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় তাসকিন হোসেন রবিন নামে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছে ওই ইউপি সচিব। গত ১৫ জুন চট্রগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সাইবার ট্রাইব্যুনালে এই মামলা দায়ের করা হয়।
মামলায় ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৯ ধারা উল্লেখ করা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিকেশন (পিবিআই) নোয়াখালী কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১৪ আগষ্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
সাংবাদিক তাসকিন হোসেন রবিন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দিতে তার নামে হয়রানিমূলক মামলাটি করেছে ইউপি সচিব ফিরোজ আলম।
এদিকে মামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝে প্রতিবাদের ঝড় বইছে। অনিয়মের ভিডিও প্রকাশ করায় তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলাটি করা হয়েছে বলে দাবি করেছে লক্ষ্মীপুরের সংবাদকর্মীরা। খধশংযসরঢ়ঁৎ ঘবংি ২৪. ঘবঃ নামে একটি ফেজবুক পেজের এডমিন। সম্প্রতি তার পেজে ইউপি সচিব ফিরোজ আলমের একটি ভিডিওচিত্র পোষ্ট করেন তিনি। এর সূত্র ধরে জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ারা হোসাইন আকন্দ ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় সচিব ফিরোজ আলমকে দায়িত্ব থেকে সাময়িক বহিষ্কারের আদেশ দেন। সচিব ফিরোজ সাইবার ট্রাইব্যুনালে দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখ করেন, রবিন খধশংযসরঢ়ঁৎ ঘবংি ২৪. ঘবঃ নামীয় একটি পেজবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। এতে তার সন্মান ক্ষুন্ন হয়েছে। ভিডিওটি ঘুষ লেনদেনের ভিডিও নয়, পরিষদের খালি বস্তা বিক্রির জন্য তিনি একজনের সাথে ৫ হাজার টাকা লেনদেনের কথা বলেছেন। সেটাকে জন্মনিবন্ধনের সনদের জন্য ঘুষ গ্রহণের কথোপকথন হিসেবে প্রকাশ করেছে। এতে তাকে সচিবের পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
সাংবাদিক তাসকিন হোসেন রবিন বলেন, যে ব্যক্তির কাছ থেকে ইউপি সচিব ফিরোজ ঘুষ নিয়েছেন, ওই ব্যক্তি টাকা লেনদেনের ঘটনাটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গোপনে ভিডিও ধারণ করে রেখেছেন। ওই ব্যক্তির নামে জন্মসনদ প্রস্তুতের জন্য সচিব ফিরোজ আলম ৫ হাজার টাকা দাবি করেছেন। ভিডিওতে সে কথোপকথন রেকর্ড করা আছে। ভুক্তভোগী ব্যক্তি ভিডিওটি আমাকে সরবরাহ করেন। পরে ভিডিওটি আমার পেজে প্রকাশের পর তাকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সচিব পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এ জন্য সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলাটি দায়ের করেছেন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ মে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে সচিব ফিরোজ আলমকে বরখাস্তের আদেশ দেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কমর্চারী চাকুরী বিধিমালা ভঙ্গের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একজন সেবা গ্রহীতা জন্ম নিবন্ধন করে দেওয়া জন্য তার কাছে গেলে তিনি ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। ওই সেবা গ্রহীতা কিছু কম টাকা নেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্ত তিনি কম না নিয়ে উল্টো বলছেন, ‘ওই টাকা তিনি শুধু একা নেন না। আরো উপরের লোকজনকে দিতে হয়।’
জানা যায়, ফিরোজ ২০১৫ সালের ১ মার্চ চর বাদাম ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার আবিরনগর গ্রামের আবদুল মালেকের পুত্র।