Ad Space 100*120
Ad Space 100*120

কমলনগরে মেঘনার তীররক্ষা প্রকল্পের জিও ব্যাগের বাঁধে ধস


প্রকাশের সময় : ৩ মাস আগে
কমলনগরে মেঘনার তীররক্ষা প্রকল্পের জিও ব্যাগের বাঁধে ধস

প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে মসজিদ, বিদ্যালয় ভবন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়িসহ বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। মেঘনার এ ভায়াবহ ভাঙনে উপজেলার পাটারীরহাট, ইসলামগঞ্জ, লুধুয়া ফলকন ও মধ্য চরফলকন এলাকায় বাস্তবায়নাধীন নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের বালুভর্তি জিও ব্যাগের বাঁধ নদীতে ধসে পড়ছে। গত এক সপ্তাহে ওইসব এলাকার জিও ব্যাগের বাঁধের প্রায় ৩০০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে ভাঙনকবলিত ওইসব এলাকার লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মেঘনার অব্যাহত ভাঙন থেকে কমলনগর ও রামগতি উপজেলাকে রক্ষায় ২০২১ সালের ১ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় তিন হাজার ৮৯ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ড একই বছরের আগস্টে ৯৯টি প্যাকেজ করে টেন্ডার আহ্বান করে। এর আওতায় এ পর্যন্ত ৪৩টি ভাগে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার এলাকার জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে কমলনগর উপজেলায় ২৬ এবং রামগতি উপজেলায় ১৭টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাঁধ নির্মাণে কাজ করছে।
সরেজমিন উপজেলার চরফলকন ও পাটারীরহাট ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যাদেশ পেলেও এখনও অনেক ঠিকাদার কাজ শুরু করতে পারেননি। বালু ও শ্রমিক সঙ্কটের অজুহাত দেখিয়ে তারা যথা সময়ে কাজ শুরু করেননি। আবার ওইসব এলাকার যেসব অংশে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ হয়েছে তাও যথাযথভাবে হয়নি। এসব কারণে, এখন উজানের পানির চাপে ইউনিয়ন দু’টির পাটারীরহাট, ইসলামগঞ্জ, লুধুয়া ফলকন ও মধ্য চরফলকন এলাকায় মেঘনার ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। যেসব স্থানে কাজ শুরু করা হয়নি ওইসব স্থান থেকে ভাঙনে গত এক সপ্তাহে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। আবার যেসব স্থানে জিও ব্যাগের বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে সেখানে দেখা দিয়েছে ধস। ওই বাঁধের পাটারীরহাট বাজারের উত্তর ও দক্ষিণ পাশের তিনটি, লুধুয়া ফলকন এলাকার দু’টি ও মধ্য চরফলকন এলাকার একটিসহ অন্তত ছয়টি স্পটের ৩০০মিটার অংশ নদীতে ধসে পড়েছে। এতে করে এলাকাবাসী এখন চরম আতঙ্কে রয়েছেন।
উপজেলার পাটারীরহাট ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে যেন মেঘনার ভাঙনের তাণ্ডবলীলা চলছে। ইতোমধ্যে ভাঙনে পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে ইসলামগঞ্জ বাজারটি। নদীগর্ভে চলে গেছে ইসলামগঞ্জ জামে মসজিদটিও। এখন বিলীনের পথে দক্ষিণ পশ্চিম চরফলকন ইসলামগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনসহ তিনটি পাকা ভবন।
একই ইউনিয়নের পাটারীরহাট এলাকায় গিয়ে জানা গেছে, ওই এলাকায় বাঁধ নির্মাণের জন্য অনেক আগে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও ঠিকাদাররা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে কাজ শুরু না করে কালক্ষেপণ করেন। পরে এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করলেও তা যথাযথভাবে করা হয়নি। যে কারণে, এখন পানির চাপে জিও ব্যাগ মেঘনাগর্ভে ধসে যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে পাটারীরহাট বাজারের উত্তর ও দক্ষিণ অংশে তিনটি স্পটের প্রায় দেড়শ’ মিটার অংশের জিও ব্যাগের বাঁধ নদীতে ভেঙে পড়েছে।
উপজেলার চরফলকন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারেফ হোসেন বাঘা জানান, হঠাৎ করে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় তাঁর ইউনিয়নের লুধুয়া ফলকন ও মধ্য চরফলকন এলাকায় নির্মাণাধীন জিও ব্যাগের বাঁধের কিছু অংশ ধসে পড়েছে। সমস্যাটি দ্রুত সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ জানান, বিভিন্ন সময়ে নদী উত্তাল থাকায় নদীভাঙন রোধের কাজের যথাযথ বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে এটা ঠিক। গেল অর্থবছরে কাজ কম হলেও চলতি অর্থবছরে কাজটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।