Ad Space 100*120
Ad Space 100*120

ঝুঁকিপূর্ণ ভবন স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে চলছে শিশুদের পাঠদান


প্রকাশের সময় : ৯ মাস আগে
ঝুঁকিপূর্ণ ভবন স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে চলছে শিশুদের পাঠদান

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর):
২০০৯ সালের আহষ্ট মাস। তৃতীয় শ্রেণির ক্লাস চলছিল। হঠাৎ শ্রেণিকক্ষের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে এক শিক্ষার্থীর মাথায়। আহত হয় সে। কিন্তু বিদ্যালয় ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু আজও হয়নি নতুন ভবন। ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবন ও স্যঁাতস্যাতে পরিবেশে চলছিল পাঠদান। পাশে শিক্ষকদের ঘোষিত টিনচালা ভবনটি পরিত্যাক্ত। এই ভবন পরিত্যাক্ত ঘোষনা না করলে পলেস্তারা খসে আরো শিশু আহত হবেন বলে জানান শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
বলা হচ্ছে উপজেলার চরবংশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কথা। তবে শুধু এই বিদ্যালয়টিই নয়; উপজেলার আরও ১০টি বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে শিশুদের পাঠদান। ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। ভয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছেড়ে বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনে যাচ্ছে শিশুরা। যারা থাকছে, তারাও আছে ঝুঁকির মধ্যে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলা বিদ্যালয়গুলো হচ্ছে চরইন্দ্রুরিয়া, চরবংশী, শিবপুর, কা নপুর, উত্তর চরলক্ষি, দেনায়েতপুর, মধ্য চরবংশী, চরকাছিয়া.কা নপুর সহ ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব বিদ্যালয় প্রতিটির অন্তত ১টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়।
চরবংশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব বিদ্যালয়ের বেশির ভাগেরই ১৯৯২ সালের প্রথম দিকে নতুন ভবন নির্মাণ করে দেওয়া হয়। কিন্তু নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দেওয়ায় কিছুদিনের মধ্যেই ভবনের গা থেকে পলেস্তারা খুলে পড়তে শুরু করে। কিছু কিছু ভবনে ফাটল দেখা দেয়। মেরামত না করায় দ্রুত এসব ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। কিন্তু বিকল্প ভবন না থাকায় বাধ্য হয়ে শিক্ষকেরা ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবনে শিশুদের বসিয়ে পাঠদান করছেন।
সরেজমিনে মঙ্গলবার (১৩ জুন) উল্লিখিত ১০টির মধ্যে চারটি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় দেনায়েতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুটি ভবন থাকলেও একটি পুরোপুরি ব্যবহারের অনুপযোগী। ভবনের প্রতিটি কক্ষের ছাদের পলেস্তারা খুলে পড়েছে। ছাদ ফেটে বেরিয়ে আছে লোহার রড। চরইন্দ্রুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটিই পাকা ভবন। ইট—সিমেন্টের পিলারগুলো ক্ষয়ে গেছে। লোহার রডের ওপর দাঁড়িয়ে আছে মূল কাঠামো। শিবপুর ও কা নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েরও একই অবস্থা।

চরবংশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর স্কুলের ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে রয়েছে। নতুন ভবন চেয়ে আবেদনও করেছেন। কিন্তু এখনো হয়নি। বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস নিতে হচ্ছে। সহকারী শিক্ষক মশিউর রহমান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে ক্লাস নিতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটছে। ২০১০ সালে মাথায় পলেস্তারা পড়ে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র রুবেল হোসেন আহত হয়। তিনি নিজে আহত হন ও মাথায় ক্ষত নিয়ে বেশ কিছুদিন ভুগতে হয়েছে।
চরবংশী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে শিশুরা আমাদের স্কুলে আসতে চায় না। অনেকেই কিন্ডারগার্টেনে চলে গেছে।’বিদ্যালয়টির তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জুনায়েদ ও মারিয়া বলে, ‘ভাঙাচোরা বিল্ডিংয়ের জন্যি স্কুলি আসতি ভয় লাগে। যতক্ষুণ আঙ্গ কেলাস হয়, ভয়ে থাহি।’
চরবংশী গ্রামের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক খোকন হোসেন বলেন, শিশুদের বিদ্যালয়ে এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থাকলে বিদ্যালয়গুলো একসময় শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়বে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘ আমি কয়েকদিন আগে যোগদান করেছি। বুধবার সকালে চরবংশী স্কুলটি পরিদর্শন করা হয়েছে। আমরা এরই মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনের তালিকা করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছি। বরাদ্দ এলেই নতুন ভবন তৈরি করে দেওয়া হবে।