Ad Space 100*120
Ad Space 100*120

ফজলুল করিমের বকেয়া বেতন-ভাতা ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা আটকে রেখেছে এনজিও


প্রকাশের সময় : ১ বছর আগে
ফজলুল করিমের বকেয়া বেতন-ভাতা ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা আটকে রেখেছে এনজিও

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : মো. ফজলুল করিম ব্যুরো বাংলাদেশের সাবেক সহকারী কর্মসূচি সংগঠক। গত পাঁচ বছর ধরে তার বকেয়া বেতন-ভাতা ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা আটকে রেখেছে এনজিও প্রতিষ্ঠানটি। শুধু তাই নয়, সাবেক এই কর্মীকে অর্থ কেলেঙ্কারির মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করেছেন এনজিওটির নোয়াখালী জেলার কুতুবেরহাট শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মো. আলমগীর হোসেন।
সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি লিগ্যাল নোটিশ ব্যুরো বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক, নোয়াখালী আ লিক ব্যবস্থাপক এবং কুতুবেরহাট শাখা ব্যবস্থাপকের নিকট পাঠিয়েছেন ভুক্তভোগী ফজলুল করিম। এতে এনজিওটির কাছ থেকে সকল পাওনা এবং মামলা করে অহেতুক হয়রানির ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন তিনি।
এদিকে ব্যুরো বাংলাদেশের কোনো কর্মীর ন্যায্য পাওনা আটকে রাখা বা নয়-ছয় করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন এনজিও প্রতিষ্ঠানটির নোয়াখালী আ লিক অফিসের প্রধান কর্মকর্তা।
আইনজীবী মো. আবদুর রশীদ জানান, ২০১৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর প্রথম লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। ব্যুরো বাংলাদেশের মামলাটি আপীল বিভাগে বিচারাধীন থাকায় আমরা আইনি পদক্ষেপ নেইনি। কিন্তু এবার আমরা কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। ফজলুল করিম ব্যুরো বাংলাদেশের কাছ থেকে বকেয়া বেতন-ভাতা ও প্রভিডেন্ট ফান্ড, মামলায় জড়িয়ে হয়রানি ও মানহানির ক্ষতিপূরণ বাবদ ১৫ লক্ষ টাকা প্রাপ্য বলেও জানান এই আইনজীবী।
জানা গেছে, ফজলুল করিম লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হাজিরপাড়া এলাকার মৃত আক্কাছ মিয়ার ছেলে। তিনি ২০১২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ব্যুরো বাংলাদেশের সহকারী কর্মসূচি সংগঠক পদে যোগদান করেন। প্রতিষ্ঠানের নিয়মনীতি মেনে প্রায় ৫ বছর চাকরি করার পর তিনি স্বেচ্ছায় ২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিল চাকরিটি ছেড়ে দেন। তখন তিনি নোয়াখালী জেলার কুতুবেরহাট শাখায় কর্মরত ছিলেন। এরপর ব্যুরো বাংলাদেশের নীতিমালা অনুযায়ী বকেয়া বেতন-ভাতা, প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং নিরাপত্তা তহবিলের এককালীন পাওনা টাকা চেয়ে সংশ্লিষ্ট শাখার তৎকালীন ব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেনের নিকট আবেদন করেন। কিন্তু শাখা ব্যবস্থাপক সাবেক এই কর্মীর ন্যায্য পাওনা পরিশোধে সহযোগিতা করেননি। উল্টো অর্থ কেলেঙ্কারির মামলায় জড়িয়ে তাকে হয়রানি ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
ভুক্তভোগী ফজলুল করিম বলেন, আমি চাকরি থেকে অব্যহতি চেয়ে এক মাস আগে লিখিত আবেদন করি। এরপর ব্যুরো বাংলাদেশের নীতিমালা অনুযায়ী আমি আমার পাওনা প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা চেয়ে আবেদন করি। তখন আমার কর্মস্থল তথা কুতুবেরহাট শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেন আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। আমি ঘুষ না দেওয়ায় আমার ক্লিয়ারেন্স ফাইল আটকে রাখেন তিনি। এর ২ মাস পর আমাকে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি শুরু করেন।
জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ব্যুরো বাংলাদেশের মামলাটির রায়ে ফজলুল করিম নির্দোষ প্রমাণিত হন । এরপর ২০২২ সালের ১৯ মে এনজিওটির আপীলও খারিজ করে দেন নোয়াখালী জেলা জজ আদালত।
তবে ব্যুরো বাংলাদেশের নোয়াখালী আ লিক ব্যবস্থাপক আলাউদ্দিন আহমেদ বলছেন, ফজলুল করিম ব্যুরো বাংলাদেশের কুতুবেরহাট শাখার ১ লক্ষ ৯১ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটি এখনও বিচারাধীন। আমরা গত মাসে নোয়াখালী জেলা জজ আদালতে রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছি। তাছাড়া ফজলুল করিমের পাঠানো লিগ্যাল নোটিশের জবাবও দিয়েছি।
তবে এ মামলার চূড়ান্ত রায়ে ফজলুল করিম নির্দোষ প্রমাণিত হলে ব্যুরো বাংলাদেশ অবশ্যই তার সকল পাওনা পরিশোধ করবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।