Ad Space 100*120
Ad Space 100*120

রামগঞ্জে মাদ্রাসা ছাত্রকে হত্যার অভিযোগে দুই শিক্ষক আটক


প্রকাশের সময় : ৮ মাস আগে
রামগঞ্জে মাদ্রাসা ছাত্রকে হত্যার অভিযোগে দুই শিক্ষক আটক

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে মোহাম্মদীয় এতিমখানা কমপ্লেক্সে নাজেরা বিভাগের (আবাসিক)ছাত্র কামরুল হোসেন শুভ (১৩) কে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মোস্তফা কামাল ও সাফায়েত হোসেন নামের দুই শিক্ষককে আটক করেছে রামগঞ্জ থানা পুলিশ। আটকের বিষয়টি ওই মাদ্রাসার সুপার ফয়সাল হোসেন সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে রবিবার (১৮ জুন) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শুভর মরদেহ উদ্ধার করে রামগঞ্জ থানা পুলিশ। পরিবারের দাবি, শুভকে শিক্ষকরা মারধর করে হত্যা করেছে। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে দাবী করেন নিহতের বাবা লিঠন।
নিহত শুভ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের সাউধেরখিল গ্রামের ভূঁইয়া গাজী বেপারী বাড়ির আমির হোসেন লিটন ভূঁইয়ার ছেলে এবং রামগঞ্জ পৌরশহরের মোহাম্মদীয় এতিমখানা কমপ্লেক্সে নাজেরা বিভাগের (আবাসিক) ছাত্র।
নিহতের মা রেখা বেগম বলেন, রবিবার সকালে মাদ্রাসা থেকে খবর আসে শুভ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এরপর হাসপাতালে এসে ছেলের লাশ দেখতে পান তিনি। তবে গতরাতে শুভ আমাকে ফোন করে বলেছে মোস্তফা কামাল হুজুর তাকে অনেক মারধর করেছে বলে দ্রুত ফোন কেটে দেয়। মোবাইলের ব্যালেন্স না থাকায় ছেলের সাথে কথা বলতে পারিনি। কয়েকদিন আগেও মারধর করার বিষয় নিয়ে বড় হুজুরের সাথে তার কথা কাটাকাটি হয়েছে বলে জানান রেখা বেগম।
নিহত শুভর বাবা আমির হোসেন লিটন ভূঁইয়া বলেন, আমার ছেলেকে রাতে শিক্ষকরা মারধর করেছে। তার কানের নিচে, হাঁটুতে ও হাতে কালো দাগ রয়েছে। শিক্ষকরা তাকে হত্যা করেছে। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই। এঘটনায় আটক দুইজন সহ ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছি।
মাদরাসার সুপার হাফেজ মো. সাফায়েত জানান, শুভ ভোরে ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়েছে। পরে সে ক্লাসরুমে এসেছে। কিছুক্ষণ পড়ার পর শিক্ষককে জানিয়েছে তার মাথা ব্যাথা করছে। এতে তার মাথায় মলম লাগিয়ে দেই। কিছুক্ষণ পর তাকে নাস্তার খাওয়ার জন্য ডাকতে গেলে দেখা যায় তার মুখ দিয়ে লালা ঝরছে। পরে শুভকে দুই—তিনজন ধরে তার কাছে নিয়ে আসে। সঙ্গে সঙ্গে তার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিক শুভকে হাসপাতাল নিলেই কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ফজরের নামাজ শেষে কিছুক্ষন পড়াশোনা করে শুভ । পরে নাস্তা (পাউরুটি) খাবার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে শুভ। এসময় তার মুখ দিয়ে ফেনা ঝরতে দেখা গেছে।
মাদরাসা পরিচালনা কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নাজমুল হক বলেন, শিক্ষকরা জানিয়েছেন, শুভ হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এতে তার মুখ দিয়ে লালা ঝরছিল। পরে শুভ হাসপাতালে নিলে চিকৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তাকে মারধর করা হয়েছে কি না তা সঠিকভাবে বলতে পারছি না। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে রহস্য উদঘাটন করবে। এতে আমাদের পক্ষ থেকে সকল ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক জানান, খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে। এতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারন জানা যাবে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।