Ad Space 100*120
Ad Space 100*120

রায়পুরে পৌরসভায় ৪দিন পানি সংকটে গ্রাহকরা, চাপা ক্ষোভ


প্রকাশের সময় : ১২ মাস আগে
রায়পুরে পৌরসভায় ৪দিন পানি সংকটে গ্রাহকরা, চাপা ক্ষোভ

লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার প্রায় অর্ধলক্ষাধিক বাসিন্দা পানির সংকটে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় গত চারদিন থেকে বিশুদ্ধ পানির তীব্র—সংকট চলছে। গ্রাহকদের চাহিদার অর্ধেক পানিও সরবরাহ করতে পারছে না পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। পৌর কর পরিশোধ করেও নাগরিক সুবিধা পাচ্ছে না পৌরবাসী। এ নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে পৌরবাসীর মধ্যে।
জানা যায়, রায়পুর পৌরসভা একটি ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা। এখানে প্রতি বছর পৌর কর বাড়লেও নাগরিক সুবিধা সে হারে তেমন বাড়ে না। বর্তমানে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন রুবেল ভাট। সময়মত পানি না পাওয়ায় সুবিধা বি ত পৌরসভার নাগরিকদের মধ্যে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ।
পৌরসভার পানি শাখার ইঞ্জিনিয়ার মো. কামরুল হাসান যুগান্তরকে জানান, পৌরসভায় প্রায় ২ হাজার ৫২৭ জন পানির গ্রাহক এবং ৫’শরও বেশি উপ সংযোগ রয়েছে। পৌরবাসীর চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন পৃথক দুটি মেশিনে ( পৌরসভার এলএম পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্নে ৭ লক্ষ লিটার এবং নতুনবাজার পানহাটা এলাকায় ৪ লক্ষ লিটার) মোট ১১ লাখ লিটারের বেশি পানির প্রয়োজন। কিন্তু গত ৪দিন ধরে ৫ লাখ লিটার পানি গ্রাহকদের সরবরাহ করা যাচ্ছে। দুইটি উচ্চ জলাধারে পাম্প দিয়ে এ পানি উত্তোলন করা হয়। কিন্তু বিদ্যুতের কম ভোল্টেজের কারণে চাহিদামত পানি উঠানো যাচ্ছে না। গত ৪দিন বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারনে উচ্চ জলাধারে পানি উত্তোলন ব্যাহত হয়।
পৌরসভার ক াপুর গ্রামের সমাজ সেবক শহীদ পাটোয়ারী ও সিরাজ ভূঁইয়া জানান, চাহিদা মোতাবেক পানি সরবরাহ না থাকায় তারা বাসায় গভীর নলকূপ বসানোর চেষ্টা করছেন। পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে পানির কষ্ট লাঘবে অসংখ্য গ্রাহক বর্তমানে গভীর নলকূপ স্থাপন করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেনায়েতপুর এলাকার এক গ্রাহক জানান, মাসের শেষে পানির বিল পরিশোধ করলেও ঠিক মত পানি পাওয়া যাচ্ছে না।তাই তার ভাড়াটিয়ারা বাসা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।
শহরের পশ্চিম দেনায়েতপুর এলাকার বাসিন্দা খোরশেদ মিয়া জানান, ওই এলাকায়ও পৌরসভার সরবরাহকৃত পানি গ্রাহকরা ঠিক মত পাচ্ছে না।
পৌরসভার কা নপুর গ্রামের গৃহিনী খুশবু আক্তার ও বাসটার্মিনাল এলাকায় বাসিন্দা কহিনুর বেগম জানান, পানির বিল দেওয়া হলেও তারা পানির সংকটে ভূগছেন। পানি আসলেও অনেক সময় অল্প সময়ের মধ্যে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ঠিকমত পানি না পাওয়ায় রান্না—বান্না করতে অন্যের বাড়ীতে গিয়ে নলকূপের পানিব্যবহারকরতে হচ্ছে।
রায়পুর নাগরিক কমিটির উপজেলা সভাপতি শাহ আলম জানান, শহরের অধিকাংশ পুকুর ভরাট করার কারণে পৌরসভার সরবরাহ করা পানির ওপরই তাঁদের নির্ভরশীল থাকতে হয়। সারা দিন পানির সংকটের কারণে তাঁরা অতিষ্ঠ।
পৌরসভার সচিব মো. আবদুল কাদের বলেন, বিদ্যুতের কম ভোল্টেজের কারণে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। গ্রাহকদের পানির সমস্যা সমাধানের জন্য অনেক টাকায় ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন মেশিনটি স্থাপন করা হয়। সাতদিনের মধ্যে মেরামত করা হবে। তখন গ্রাহকরা পানির সুবিধা পাবেন। পানির সংকট অনেকটা কমে যাবে।