Ad Space 100*120
Ad Space 100*120

রাস্তা বন্ধ করায় ৭ মাস ধরে ১১ পরিবার অবরুদ্ধ


প্রকাশের সময় : ৩ years ago
রাস্তা বন্ধ করায় ৭ মাস ধরে ১১ পরিবার অবরুদ্ধ
প্রায় ৩৫ বছর আগে বখতার খাঁ নামের স্থানীয় এক ব্যাক্তির থেকে জায়গা কিনে বসতি করছি। তখন রাস্তা দেখে জমি কিনি। কিন্তু এখন রাস্তা আটকে দেওয়ায় সাইকেল নিয়েও ঢুকতে পারছি না। বাজার থেকে জিনিসপত্র কিনে তা মাথায় করে অনেক ঘুরে আসতে হচ্ছে। পরিবারের কেও অসুস্থ হলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিতে পারছি না।
শনিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিন চরবংশী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরকাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা হয়রত আলী খাঁ, ইব্রাহিম গাইন, আশ্রাফ আলী ও আজগর মাঝি আক্ষেপ করে এ প্রতিবেদককে এসব কথা বলেন।
মোল্লারহাট বাজারের দক্ষিন দিকে মাঝি বাড়ির সামনের চলাচলের ২২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩ ফুট প্রস্থের রাস্তা বন্ধ করে আধাপাকা ভবন নির্মাণ করে দেওয়ায় প্রায় ১১টি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
দক্ষিন চরবংশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সমর্থক সিরাজুল ইসলাম (সেরান্না পাল), তার স্ত্রী পারুল বেগমসহ ছেলেদের বিরুদ্ধে রাস্তাটি বন্ধের অভিযোগ করছেন প্রতিবেশীরা। রাস্তা বন্ধ করায় পরিবারগুলো ৭ মাস ধরে মহা বিড়ম্বনায় পড়েছে।
আজগর মাঝি যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার বিবাহ উপযুক্ত দুটি মেয়েসহ পরিবারের ৬ জন সদস্য। দুইজন প্রায়ই অসুস্থ থাকে । তাদের মাঝে মধ্যে ডাক্তার খানায় নিয়ে যেতে হলে ঘাড়ে করে নিয়ে যেতে হয়। এটা অনেক কষ্টকর। নামাজ পড়তে যেতে পারিনা। পরিবারের কোন সদস্য মারা গেলে জানাজা পড়ার জন্য মানুষ আসতে পারবেনা।  এ যুগেও এ ধরনের আচরণ করে মানুষ, তা ভাবা যায় না। জাহেলিয়াতের যুগের মতো আচরণ করছে তারা। আমরা যে কী মানবেতর জীবনযাপন করছি, তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। এখন পর্যন্ত একজন মানুষ আমাদেরসহযোগিতাকরেনা।
নাজমা বেগম নামে অপর এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, আমাদের কথা বলার জায়গা নেই। কৃষি কাজ করে খাই। অনেক হাত-পা ধরেছি কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। ওরা দাবি করছে রাস্তার জায়গা ওদের। রাস্তার ওপর আধাপাকা ভবন করে রেখেছে। গাছ ফেলে রাস্তা আটকে রেখেছে। মানুষ মরলে লাশ নিয়ে যাওয়ার মতো জায়গা নেই। গত ৫ মাস ধরে জলাবদ্ধতায় রয়েছে পুরো বাড়ী। একমাত্র মেয়েটি একটি সিভিল পোষাক সঙ্গে নিয়ে স্কুলের ড্রেস পড়ে স্কুলে যায়। শিশু বাচ্চারা জামা হাটুর উপর ও বই মাথায় নিয়ে স্কুলে যেতে হয়।
ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী তবিব উল্যা কাসিদ বলেন, ‘৩৫ বছরের পুরানো রাস্তা এটি। সিরাজুল ইসলাম (সেরান্না পাল), তার স্ত্রী পারুল বেগমসহ ছেলেরা এখন রাস্তাটি নিজেদের বলে দাবি করে রাস্তা আটকে দিয়েছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সবাইকে হুমকি দিচ্ছেন কেউ রাস্তা দিয়ে গেলে তার পা ভেঙে দেবে। এ কারণে আমরা আশপাশের বিভিন্ন বাগান দিয়ে যাতায়াত করছি। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় ১১টি পরিবারের সদস্যরা বেকায়দায়। ’
অবরুদ্ধ এসব পরিবারের সদস্যরা আরো বলেন, ‘এখানের প্রায় সবাই খেটে খাওয়া দিনমজুর। সবাই শান্তিপ্রিয় গরিব মানুষ। যারা রাস্তাটি বন্ধ করেছেন, তারা স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ সমর্থনকারি। হঠাৎ করে তারা তাদের জমি দাবি করে রাস্তাটি দখল করে নেন। এ কারণে চলাচল করতে পারছি না আমরা। ’ ১১টি পরিবারের শিশু, বিবাহিত যুবতি ও বৃদ্ধসহ ৭৭ জন সদস্য মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি। মেম্বার-চেয়ারম্যানরাও দেখেনা।
অভিযুক্ত সিরাজুল ও তার স্ত্রী পারুল বেগম  বলেন, আমরাও বখতার খাঁ থেকে জমি কিনেছি। তখন পরিমাপ করা হয়নি। এখন আমরা পেয়েছি। ‘সম্পূর্ণ রাস্তাটি হচ্ছে আমাদের জায়গার ওপর। আমাদের পেছনের লোকজন এ রাস্তার ওপর দিয়ে চলাচল করছিলেন। ওই পরিবারগুলো বখতার খাঁর কাছ থেকে জমি কিনছে সে তো এখন কিছু বলছেনা। আমরা আমাদের জমিতে গর তুলেছি। ’
দক্ষিন চরবংশী ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ মিন্টু ফরায়েজি যুগান্তরকে বলেন, ‘রাস্তার জায়গা তাদের, এটা ঠিক। কিন্তু জনগণের চলাচলের জন্য এরাস্তা ব্যবহার করা হতো। শুনেছি আমার আগের চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ মোল্লা বিষয়টি নিয়ে মিমাংশায় বসেছিলেন। এখন এ সমস্যা কেন হবে তা আমার বোধগম্য না।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  (ইউএনও) অনজন দাস  জানান, রাস্তা আটকে দেওয়ার বিষয়টি তিনি গতকাল জেনেছেন। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।