Ad Space 100*120
Ad Space 100*120

লক্ষ্মীপুরে পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর ১০ বছরের সাজা


প্রকাশের সময় : ১১ মাস আগে
লক্ষ্মীপুরে পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর ১০ বছরের সাজা

লক্ষ্মীপুর: পরকীয়া সন্দেহে বিয়ের এক বছরের মাথায় লক্ষ্মীপুরের বশিকপুরে স্ত্রী লামিয়া আক্তার ঐশিকে হত্যার দায়ে স্বামী আরমান হোসাইন ওরফে আরিফকে (৩০) ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত। একই সাথে তার ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) বেলা ১১ টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন। রায়ের সময় আসামী আরিফ আদালতে উপস্থিত ছিলো। আদালত তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে তিনি জামিনে ছিলেন। জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. জসিম উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্র জানায়, জেলার সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের পশ্চিম শেরপুর গ্রামের চৌকিদার বাড়ির মৃত আমির হোসেনের ছেলে আরমান হোসাইন আরিফের সাথে একই উপজেলার জাহানাবাদ গ্রামের হাসান আহম্মেদের মেয়ে লামিয়া আক্তার ঐশির সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ২০১৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর তারা নিজেরা বিয়ে করেন।
বিয়ের পর থেকে আরিফ তার স্ত্রী ঐশিকে নিয়ে অন্য ছেলেদের সাথে পরকীয়ার সন্দেহ করে। ঐশি মোবাইল ফোনে পরপুরুষের সাথে কথা বলতো। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায় ঝগড়াঝাটি হতো। আরিফ অন্য ছেলেদের সাথে ঐশিকে কথা বলতে নিষেধ করলেও সে শুনতো না। এনিয়ে বিভিন্ন সময় মারধর করতো। এতে ঐশি একদিন আত্মহত্যার চেষ্টাও করে। তবে বাড়ির লোকজন তাকে রক্ষা করে। পরকীয়ার সন্দেহ করে ২০১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে আরিফ তার স্ত্রী ঐশিকে মারধর করে গলা চেপে ধরে। এতে সে অজ্ঞান হয়ে পড়লে আরিফ তাকে একটি সিএনজি যোগে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায় ঐশি।
পরে মৃতদেহ বাড়িতে এনে নিজ বসতঘরে রেখে পালিয়ে যায়। এসময় আরিফের অন্য স্বজনরাও গা—ঢাকা দেয়। আরিফ তার শাশুড়ি সুফিয়া আক্তারকে ঐশির অসুস্থতার কথা জানালে সুফিয়া এসে তার মেয়ের মৃতদেহ ঘরে পড়ে থাকতে দেখে। পরে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে। ১ অক্টোবর সুফিয়া আক্তার চন্দ্রগঞ্জ থানায় জামাতা আরমান হোসাইন আরিফ ও ঐশির ভাসুর মো. সফিক এবং ননদ জেসমিন আক্তারকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ২০১৯ সালের ১০ জুলাই আসামী আরিফকে গ্রেফতার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ তার স্ত্রী ঐশিকে পরকীয়ার জের ধরে হত্যার কথা স্বীকার করে। পরে আদালতে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চন্দ্রগঞ্জ থানার সেই সময়ের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মজিবুর রহমান ঐশির স্বামী আরমান হোসাইন আরিফকে অভিযুক্ত করে ২০১৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেন। মামলার অন্য দুই আসামী আরিফের ভাই সফিক ও বোন জেসমিন আক্তারকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। আদালত সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে আরমান হোসাইন আরিফের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন।