Ad Space 100*120
Ad Space 100*120

লক্ষ্মীপুর রামগঞ্জে দাফনের ৯ দিন পর কবর থেকে গৃহবধূর মরদেহ উত্তোলন


প্রকাশের সময় : ১১ মাস আগে
লক্ষ্মীপুর রামগঞ্জে দাফনের ৯ দিন পর কবর থেকে গৃহবধূর মরদেহ উত্তোলন

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: দাফনের ৯ দিন পর কবর থেকে আসমা আক্তার (২৬) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উত্তোলন করেছে রামগঞ্জ ও চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানা পুলিশ। আজ সোমবার দুপুরে রামগঞ্জ পৌর কাজীরখীল গ্রামের দৌরে আলী মিঝি বাড়ীর কবরস্থান থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হয়।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও রামগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মনিরা খাতুনের উপস্থিতিতে গৃহবধূ আসমা আক্তারের মরদেহ উত্তোলন করা হয়।
এ ঘটনায় কাজীরখীল গ্রামের দৌরে আলী মিঝি বাড়ীর তোফাজ্জাল হোসেনের ছেলে ও গৃহবধূ আসমা আক্তারের স্বামী কাজী শাহেদুজ্জামান রিমন (প্রকাশ লিমন) কে আটক করা হয়।
আসমা আক্তারের বাবা মোঃ আলম জানান, আমাদের বাড়ী কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার নাইটংপাড়ায়। আমার মেয়ে আসমা আক্তার ও রামগঞ্জ উপজেলার কাজী শাহেদুজ্জামান রিমন (প্রকাশ লিমন) একটি গার্মেন্টেসে কর্মরত ছিলেন। প্রায় ১১ বছর পূর্বে প্রেমের সম্পর্কে আমার মেয়ের সাথে রিমনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা উত্তর পতেঙ্গার পশ্চিম হোসেন আহম্মেদ পাড়া, খেজুরতলা জোনাব আলী স্কুল সংলগ্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলো। তাদের ঘরে ১০ বছর, ৩ বছর ও ১০ মাস বয়সী তিন সন্তান রয়েছে।
ঘটনার দিন চলতি মাসের ১০ জুন আমার মেয়ে আসমার স্বামী রিমন (প্রকাশ লিমন) আমার মোবাইলে কল দিয়ে জানায় আমার মেয়ে আসমা আক্তার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
আমি আমার অন্য মেয়ে ও আত্মীয়দের বিষয়টি জানিয়ে মেয়েকে দেখার জন্য ঘটনাস্থলে আসতে চাইলে আসমার স্বামী লিমন জানান তার পেট ফুলে গেছে তাকে গ্রামের বাড়ীতে নিয়ে যেতে হবে।
এর পর থেকে তার মোবাইল বন্ধ পাই। পরবর্তিতে আমি ঘটনাস্থলে এসে জানতে পারি আমার মেয়ের লাশ একটি অ্যাম্বুলেন্সে চাটখিলের উদ্দেশ্যে চলে গেছে। এ ঘটনার তিনদিন পর আমার মেয়ের সঠিক মৃত্যুর কারন ও খেঁাজ না পেয়ে পতেঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করি।
পতেঙ্গা থানার উপ পরিদর্শক সফিকুল ইসলাম জানান, আমরা মামলা হওয়ার পর তদন্তে নেমে পড়ি। ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ীর মালিকের সাথে কথা বলে অ্যাম্বুলেন্স চালকের সাথে কথা বলি। আটক করা হয় গৃহবধূ আসমা আক্তারের স্বামী শাহেদুজ্জামান রিমনকে।তারপর তাকে সাথে নিয়ে আদালতের নির্দেশে লাশ উদ্ধার করতে আজ সোমবার সকালে রামগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর উপস্থিতিতে রামগঞ্জ উপজেলার কাজীরখীল গ্রামের একটি কবরস্থান থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মনিরা খাতুন জানান, আদালতের নির্দেশে ও রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ শারমিন ইসলামের তত্বাবধানে কাজীরখীল গ্রামের দৌরে আলী মিঝি বাড়ীর কবরস্থান থেকে লাশটি উত্তোলন করা হয়। পতেঙ্গা থানা পুলিশ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।