Ad Space 100*120
Ad Space 100*120

শেখ হাসিনার বিচক্ষণতা, অভিজ্ঞতা দিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে


প্রকাশের সময় : ৮ মাস আগে
শেখ হাসিনার বিচক্ষণতা, অভিজ্ঞতা দিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে

প্রতিনিধি : জাতীয় সংসদের হুইপ ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ আল স্বপন বলেছেন, শেখ হাসিনার বিচক্ষণতা, অভিজ্ঞতা দিয়ে এ দেশ পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। এ রাষ্ট্র কারো কাছে মাথানত করতে পারে না। পৃথিবীর অন্যান্য রাষ্ট্র থেকে আলাদা। বাংলাদেশের নিজস্ব একটি মর্যাদা রয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পৃথিবীতে একটি রোল মডেল। কিন্তু বিদেশী রাষ্ট্রদূতরা জোটবদ্ধ হয়ে সাজানো বিভিন্ন ইভেন্টেও বিবৃতি প্রদান করেন। এটি কূটনীতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত। এটি জেনেভা কনভেনশনের পরিপূর্ণ পরিপন্থী।
রাষ্ট্রদূতরা যা করছেন, কোন দেশের রাষ্ট্রদূতরা রাজনৈতিক জোটের মতো করে আচরণ করতে পারে না। এটি তাদের দায়িত্ব, কর্তব্য এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচার পরিপন্থী।
শনিবার (২২ জুলাই) দুপুরে লক্ষ্মীপুরে জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ আয়োজন করা হয়।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন বলেন, আমরা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, ৩০ লাখ শহীদের রক্তে গড়া বাংলাদেশ আর কখনো কারো নিকট মাথানত করতে পারেনা। আমরা বিদেশীদের বন্ধু মনে করি, আমাদের প্রভু নয়। কারো রক্তচক্ষুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলার মানুষ ভয় করে না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা দেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব, আত্মমর্যাদা ও নিজস্ব স্বকিয়তা কখনো বিসর্জন দিতে পারেন না। দেশী ও বিদেশী অপশক্তি দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এ ষড়যন্ত্র মোকাবেলার দায়িত্ব আওয়ামী লীগ ও প্রত্যেক নাগরিকের। এ মুহুর্তে শেখ হাসিনার চেয়ে শক্ত ও দৃঢ়চেতা কোন রাজনীতিবিদ পৃথিবীতে নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাদুকরী রাষ্ট্রনায়ক। তিনি আমাদের ও জাতির জন্য একটি সম্পদ। এ সম্পদকে আমরা হারাতে চাই না।
লক্ষ্মীপুরের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে করে স্বপন বলেন, আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ সবার উপরে দেশ সত্য, দেশকে বাঁচাতে হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী রাখতে হবে। দেশ বাঁচাতে হলে আওয়ামীলীগকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় রাখতে হবে। সুতরাং নিজেদের মধ্যে কোন সমস্যা থাকলে সেটি মিটিয়ে ফেলতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগের কাছে পৃথিবীর কোন শক্তি পেরে উঠতে পারবে না। জনগণকে সাথে নিয়ে দেশকে রক্ষা করতে হবে। যে কোন ষড়যন্ত্র, হুমকি ধমকি সবকিছু মোকাবেলা করে সক্রিয় স্বত্ত্বা নিয়ে বাঙালি এগিয়ে যাবে। বাঙালিকে আর কেউ দাবিয়ে রাখতে পারে না।
হুইপ স্বপন আরও বলেন, বাংলাদেশে শতভাগ অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে আবারও নৌকা মার্কাকে বিজয় করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হবে। নির্বাচনের সময় সরকার কোন হস্তক্ষেপ করবে না। সংবিধান মোতাবেক নির্বাচন কমিশন যেভাবে চাইবে, সরকারের নির্বাহী বিভাগ নির্বাচন কমিশনকে সেভাবে সহযোগিতা করবে। সে নির্বাচনকালে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকবে জননেত্রী শেখ হাসিনা। মেজোরিটি পার্টির নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই নির্বাচনকালীন সরকার থাকবে। তাঁর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ সরকারের মন্ত্রীসভায় কারা কারা নতুন করে সংযুক্ত হবেন তা জানা যাবে। তাঁর অধীনে প্রশাসন থাকবে। সংবিধান মোতাবেক নির্বাচন কমিশনকে শতভাগ সহযোগিতা করবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে সামনের নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচন হবে। আমরা প্রমান করতে চাই যারা মিথ্যা প্রচার করে, তারা শুধু মিথ্যা বলে না, মহা মিথ্যুক। বলেন, বিএনপি এ দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে সেই টাকা দিয়ে বিদেশী লবিষ্ট নিয়োগ করতেছে। তাদের মাধ্যমে দেশকে নিয়ে মিথ্যাচার করছে। কিছু ছবি এডিট করে বিএনপি-জামায়াত দেশের বিরুদ্ধে বিদেশীদের কাছে নানান কল্পকাহিনী উপস্থাপন করে ধর্ণা ধরেছে। সাধারণত কোন দেশপ্রেমিক নিজের দেশের বিরুদ্ধে কখনোই কথা বলতে পারে না। আর বিএনপি-জামায়াত দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক সংগঠন নয়। এ কারণে তারা বিভিন্ন সময় দেশ বিরোধী অপবাদ চালাচ্ছে। স্বপন বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী। সুতরাং রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর পদে থেকে কোনভাবে সাজাপ্রাপ্ত আসামীর সঙ্গে ডায়ালগ করার কোন সুযোগ সংবিধান বা আইনের বিঁধিতে নেই। যদি বিএনপি মনে করে তারা নির্বাচন কালীন সরকারে থাকতে চায়, তাহলে তারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর নিকট আবেদন করতে পারে।
লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন এমপির সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল মামুন, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহিম, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম সালাহ উদ্দিন টিপু, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক উপকমিটির সহ-সম্পাদক এমএ মমিন পাটওয়ারী, কেন্দ্রীয় যুবলীগের উপ পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শামছুল ইসলাম পাটওয়ারী, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক রাসেল মাহমুদ মান্না, সাবেক ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সামছুদ্দিন সাজু এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক নজরুল ইসলাম ভুলু প্রমুখ।