Ad Space 100*120
Ad Space 100*120

সফলতার স্বপ্ন দেখছেন লক্ষ্মীপুরের সাইফুল


প্রকাশের সময় : ৭ মাস আগে
সফলতার স্বপ্ন দেখছেন লক্ষ্মীপুরের সাইফুল
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের গংগাপুর গ্রামের সৈয়দ আহমদের পুত্র ও প্রবাস ফেরত সাইফুল স্বপ্ন দেখছে আড়াই একর জমিতে চালানো মাল্টাহ বিভিন্ন গাছের উপর। একই উপজেলার শাকচর গ্রামের গড়ে তোলেন বাগান। গত বছর মাল্টা চাষ করে লাভবান হওয়ার কারণে এ বছর উৎপাদন বাড়ায়।
পাশাপাশি কমলা, চিনা মাল্টা, পাকিস্তানীসহ বিভিন্ন দেশের মাল্টা চাষ করেছেন সেই। তার স্বপ্ন তার বাগানকে নিয়ে। কিন্তু সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ায় হতাশ সেই। বেসরকারিভাবে একটি এনজিও সহযোগিতা পেলেও পায়নি সরকারি কোনো অনুদান, বীজ, সার, কীটনাশক। গতকাল সোমবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায় সাইফুলের বাগারে মাল্টা, কমলা, বারমাসি আম, ড্রাগন, শাকসবজিসহ বিভিন্ন কৃষি পণ্য রয়েছে।
এ বিষয়ে সাইফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ সৌদি আরব থাকার পর ২০১৪ সালে দেশে এসে আড়াই একর জমি ক্রয় করে বাগান শুরু করে আবার বিদেশ চলে যায়। পরে ২০২১ সালে করোনা মহামারি শুরু হলে সৌদি আরব থেকে দেশে চলে এসে বাগানে সময় দেওয়া শুরু করে।
বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও কৃষি পণ্য চাষবাদা করলে গত বছর থেকে দেশি মাল্টা, কমলা ও বারমাসি আম গাছ লাগানো শুরু করে। এর মধ্যে মাল্টা ও কমলা চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে চলতি বছর ২০০ শতাধিক মাল্টা, ২৭০টি কমলা গাছের রোপণ করেন। এ ছাড়াও ড্রাগন, পেঁপে, শসা, কলাসহ বিভিন্ন কৃষি পণ্য চাষাবাদ শুরু করে।
চলতি বছরে তার এ পর্যন্ত ১০ লাখ ব্যয় হয়ে গেছে। বর্তমানে তার পিতা সৈয়দ আহমদ ও মাসিক বেতন ১৫০০ টাকা দিয়ে একজন শ্রমিক নিয়োগ করেন। তিনি আশা করেন চলতি বছর ফলন ভালো হলে মাল্টা ও কমলা থেকে ২০-৩০ লাখ টাকা আয় করতে পারবে। তবে তার বাগানে পাকা ড্রেন তৈরি এবং কৃষি পণ্য, ব্রীজ, কীটনাশক, সার সরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার।
সম্প্রতি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. জাকির হোসেন তার বাগার পরিদর্শন করে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিলেও এখনো কোনো ধরনের সহায়তা পাইনি বলে জানান সাইফুল। সাইফুলের পিতা সৈয়দ আহমদ বলেন, ছেলের পাশাপাশি তিনিও বাগানে সময় দেয় সহযোগিতা করেন। তিনি বলেন, মাল্টা ও কমলা কিনতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসে। আগামী ১-২ মাস পর মাল্টা ও কমলা সাইজ পরিপূর্ণ হবে। সরকার ও কৃষি সহযোগিতা পেলে জেলার চাহিদা মেটাতে তারা উৎপাদন বাড়াবে।
বেসরকারি এনজিও কোডেকের কৃষি কর্মকর্তা মো. কাউছার জানান, কোডেক সমন্বিত ইউনিট প্রকল্প থেকে সাইফুলকে তারা এককালীন ২০ হাজার টাকা এবং ২ বছরে সবজি চাষের জন্য ২০ হাজার টাকা বীজ প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের কৃষি পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন জানান, ২০২২ সালে সাইফুলের বাগানটি সন্ধান পাই। সেই একজন পরিশ্রমী উদ্যোক্তা নিজের পরিশ্রমের মাধ্যমে বাগানটি সুন্দর করে সাজিয়েছেন। গত বছর ভালো ফলন পেয়েছে। এ বছর বাগানের পরিধি আরো বাড়িয়েছে। তার মার্কেটিং ও পরিচর্যা বিষয়ে কয়েকটি সমস্যা ছিল তা আমরা সমাধান করে দিয়েছে। কোথায় কীভাবে পণ্য বিক্রি করলে লাভবান সেই বিষয়ে কিছু দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়। তবে তার বাগানে পানির লাইনে এখনো সমস্যা আছে বিষয়টি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে অনুরোধ করেছি সহযোগিতা করার জন্য। কৃষি বিভাগ তার বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে তা করতে পারে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. জাকির হোসেন বলেন, আমরা প্রান্তিক কৃষকদের নিয়ে কাজ করি মূলত। সাইফুলের মাল্টা ও কমলা বাগান দেখে এসেছি। তাকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে আলোচনা করা হবে।