Ad Space 100*120
Ad Space 100*120

সরকারি অ্যাম্বুলেন্স এমপি প্রার্থীর বাসায় ইউপি চেয়ারম্যান


প্রকাশের সময় : ৩ মাস আগে
সরকারি অ্যাম্বুলেন্স এমপি প্রার্থীর বাসায় ইউপি চেয়ারম্যান

প্রতিনিধি:লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিন চরবংশি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা তার পরিষদের সকল মেম্বার নিয়ে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ‘স্বপ্নযাত্রা’ ব্যবহার করে রাজনৈতিক কাজে (বর্তমান এমপি এডঃ নয়নের বাসায় যা অভিযোগ উঠেছে। এসময় সাবেক চেয়ারম্যান ও আ’লীগের সভাপতি আবদুর রশীদ মোল্লাও ছিলেন। এতে তাকে নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, তিনি উপজেলা প্রশাসনকে না জানিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে ভূল করেছেন।জেলা প্রশাসন বলছে, অ্যাম্বুলেন্সটি শুধুমাত্র রোগীদের ব্যবহার করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু সরকারি নীতিমালা অমান্য করে ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক কাজে চেয়ারম্যান অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করেছেন।এতে জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
চেয়ারম্যানের দাবি, স্বপ্নযাত্রা অ্যাম্বুলেন্স খুব কম মানুষ ভাড়ায় নেন । এমনিতেই পড়ে থাকে। কিন্তু চালককে তো বেতন দিতে হয়। এজন্যই ভাড়ায় তিনি ব্যবহার করেছেন।
রোববার রাতে (৩ ডিসেম্বর) রায়পুর উপজেলার দক্ষিন চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন মোল্লার হাট বাজার থেকে ইউপি চেয়ারম্যান আবু জাফর মোঃ সালেহ (মিন্টু ফরাজি) তার পরিষদের সকল মেম্বার ও সাবেক চেয়ারম্যান কে সঙ্গে করে জেলা সদরে লক্ষ্মীপুর মহিলা কলেজের সামনে এমপি এডঃ নয়নের বাসায় অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ে নির্বাচনি প্রচারনা সভায় নেওয়া হয়। সেখানে এমপি নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের সাথে সভা ছিল। সন্ধ্যা ৭ টার সময় এমপির বাসার সামনে অ্যাম্বুলেন্সটি চেয়ারম্যান- মেম্বারদের নামিয়ে ওই বাড়ির সামনেই অবস্থান করছিল। এসময় দুইজন সাংবাদিক এম্বুলেন্সটির ছবি তোলা মাত্রই স্থান থেকে চম্পট দেয় চালক।
এদিকে, বিষয়টি জানতে পেরে জেলা প্রশাসক সুরাইয়া জাহান ও রায়পুরের ইউএনও অন্জন দাশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, রোগীদের সেবা দেওয়া ছাড়া কোনভাবেই অন্য কাজে অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করা যাবে না।
ইউপি চেয়ারম্যান আবু জাফর মোঃ সালেহ বলেন, আমি ইউএনও এবং সহকারী কমিশনারের (ভূমি) অনুমতি না নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করায় ভূল করেছি। অ্যাম্বুলেন্স কেউ ভাড়ায় নেন না। চালককে ভাড়া দিতে হয়। এ জন্যই অ্যাম্বুলেন্সটি ভাড়াই আমি ব্যবহার করেছিলাম। অন্য কোনো গাড়ি নিলেও আমাকে ভাড়া দিতে হতো।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অন্জন দাশ বলেন, রোববার রাতে সাংবাদিকদের মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পারি। রাতেই এম্বুল্যান্সটি উপজেলায় নিয়ে আসা হয় এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুন কর্তৃক নির্বাচনী আচরণ বিধির উপর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। সরকারি যানবাহন (স্বপ্নযাত্রা অ্যাম্বুলেন্স) ব্যবহার করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার অপরাধে দক্ষিন চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু জাফর মোঃ সালেহকে
সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ১৪(২) লঙ্ঘনের দায়ে বিধি ১৮(১) মোতাবেক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে।